Showing posts with label হজ্জ. Show all posts
Showing posts with label হজ্জ. Show all posts

কুর‘আন ও হাদীস থেকে নির্বাচিত দো‘আ সমূহ

কুর‘আন ও হাদীস থেকে নির্বাচিত দো‘আ সমূহ

কুর‘আন ও হাদীস থেকে নির্বাচিত দো‘আ সমূহ

• কুরআনের নির্বাচিত দো‘আ:

১- رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
১। হে আমাদের প্রভু! দুনিয়াতে আমাদের কল্যাণ দাও এবং আখিরাতেও কল্যাণ দাও। আর আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও।১

হজ, উমরা ও যিয়ারতের পদ্ধতি [মাসনূন দো‘আ সহ]

হজ, উমরা ও যিয়ারতের পদ্ধতি [মাসনূন দো‘আ সহ]

ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। পবিত্র ও বরকতময় অগণিত স্ত্ততি আল্লাহর জন্যই নিবেদিত। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা যিনি সম্মানিত ঘরকে মানুষের মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে পরিণত করেছেন, যে ঘরের প্রতি রয়েছে আল্লাহর মু’মিন বান্দাদের হৃদয়ের আকর্ষণ।

হজ্জের পর হাজী সাহেবের করণীয়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

হজ্জের পর হাজী সাহেবের করণীয়

মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতেই সকল সৎকাজসমূহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, আর তাঁর দয়াতেই সকল ইবাদাত কবুল হয়ে থাকে ।
হজ্জ গত হল, তার কার্যাদি পূর্ণ হলো, আর হজের মাসসমূহ তার কল্যাণ ও বরকত নিয়ে চলে গেল । এ দিনগুলো অতিবাহিত হলো, আর মুসলিমগণ তাতে তাদের হজ সম্পাদন করল, তাদের কেউ আদায় করল ফরয হজ্, অপর কেউ আদায় করল নফল হজ্, তাদের মধ্যে যাদের হজ কবুল হয়েছে তারা তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে নিয়ে এমন দিনের মত প্রত্যাবর্তন করল যেমন তাদের মাতাগণ তাদেরকে জন্ম দিয়েছিল । সুতরাং সফলকামদের জন্য রয়েছে মুবারকবাদ । যাদের থেকে তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে তাদের সৌভাগ্যই সৌভাগ্য ! “আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ থেকেই কবুল করে থাকেন” । সূরা আল-মায়েদাহ্: ২৭ ।

বিদায় হজের ভাষণ

শুক্রবার, ৯ জিলহজ, ১০ হিজরি সনে আরাফার দিন দুপুরের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষাধিক সাহাবির সমাবেশে হজের সময় এই বিখ্যাত ভাষণ দেন।
হাম্দ ও সানার পর স্বীয় ভাষণে এরশাদ করেন : আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তার সমকক্ষ কেউ নেই।
আল্লাহ্ তার ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তিনি তার বান্দাকে সাহায্য করেছেন। আর তিনি একাই বাতিল শক্তিগুলো পরাভূত করেছেন।
হে আল্লাহ্র বান্দারা! আমি তোমাদের আল্লাহ্র ‘এবাদত ও তার বন্দেগির ওসিয়ত করছি এবং এর নির্দেশ দিচ্ছি।
হে লোক সকল! তোমরা আমার কথা শোন। এরপর এ স্থানে তোমাদের সাথে আর একত্র হতে পারব কি না জানি না।
হে লোক সকল! আল্লাহ্তায়ালা এরশাদ করেছেন, হে মানব জাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে পয়দা করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্র ভাগ করে দিয়েছি যেন তোমরা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো।

হজ্ব ¡ ও কুরবানি

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খানমহান 
আল্লাহ কিছু কিছু সময় এতটাই বরকতপূর্ণ করে বান্দাদের সামনে উপস্থাপন করেন, যে সময়ের সামান্যতম ইবাদতও তাদের আল্লাহর নৈকট্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক এ ধরনেরই একটি বরকতপূর্ণ সময়। এ সময়ের রাতগুলোর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এখান থেকেই বোঝা যায়, আল্লাহ তায়ালা এ রাতগুলোর নামে কসম করে বলেন ‘১০টি রাতের কসম’। (সূরা ফাজর : ২)। তাই এ রাতগুলোতে মোমিন বান্দার চোখের ঘুম দূর হয়ে যাওয়া উচিত। এ কারণেই আল্লাহর খাস বান্দারা রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদের জন্য আরামের বিছানা ছেড়ে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। সাড়া দেয় তারা আল্লাহর সেই ডাকের ‘কোথায় রিজিক সন্ধানী! আমার কাছে রিজিক চাও আমি রিজিক দেব, কোথায় অসুস্থ, যে রোগের সুস্থতা চাও, আমি সুস্থতা দান করব’। (মেশকাত)। বিশেষ করে এ রাতগুলোতে আল্লাহর মোমিন বান্দারা এশা ও ফজর নামাজ মহল্লার মসজিদে এসে জামাতের সঙ্গে আদায় করে। কারণ, তারা জানে যারা এশা এবং ফজর জামাতেরসঙ্গে আদায় করে তারা সারারাত নফল নামাজের সওয়াব পায়। (মেশকাত)।

ত্যাগের শিক্ষা কুরবানীর শিক্ষা

শরীফ আবদুল গোফরান : ত্যাগের মহিমা ছাড়া দুনিয়ায় বড় কিছু হয়নি। মানবজাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ) ও হযরত ঈসমাইল (আঃ) ত্যাগের যে মহিমা দেখিয়েছেন কেউ কি আর তা দেখাতে পারবে? বিশ্ব ইতিহাসে এ ঘটনার অন্ত নাই। কিন্তু এমন চমকপ্রদ ঘটনা আর দ্বিতীয়টি কি আছে ? মনকাড়া হৃদয়স্পর্শী ঘটনারও কোন শেষ নাই। কিন্তু এমন অতল তুলনাহীন হৃদয় স্পর্শী ঘটনা আর কখনো ঘটবেও না। স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের কাহিনীতে বিশ্ব ইতিহাসের পাতা ভরপুর। কিন্তু এমন নিখাদ পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী আনুগত্যের কাহিনী আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
পিতা-পুত্রের দরদী আলাপ ? তারও কী কোন ঠিক-ঠিকানা আছে ? কিন্তু এমন একাত্ম, মধুর ও বিনীত আলাপনের কোন নমুনা আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এমন একটা অদ্বিতীয় মহান ঘটনার উত্তরাধিকারী আমরা। ত্যাগের মহিমায় আমাদের অতীত, সত্যি সমুজ্জ্বল। আলোকিত। প্রাণবন্ত। এ জন্য সত্যি সত্যি আমরা গর্ব করতে পারি।

মনের পশুটাকে জবাই করি

ফরিদ আহমেদ হৃদয় : বিকেল বেলা আমি এবং আমার বন্ধু বরকত আমরা দু’জনে মিলে বাড়ির পাশের একটি খোলা মাঠে হাটতে গেলাম। অনেকক্ষণ হাটাহাটি ঘুরাঘুরি করে তারপর দু’জনে একটু দুর্বা ঘাসে বসে বিশ্রাম নিলাম। সামান্য গল্পও করলাম দু’জন। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা নেমে এলো। তখন আমরা ফিরে এলাম। বরকত ওর বাড়িতে চলে গেল। আমিও আমাদের বাড়িতে চলে আসি এবং আমার রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে থাকি। মাগরিবের নামাজটা শেষ করে এসে বাবা ডেকে বলল ওরে খোকা এ দিকে একটু আয়তো। আমি বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে বাবার কাছে ছুটে এলাম। বাবা বলল কুরবানীর আর মাত্র একদিন বাকি আছে। কালকে তুই আর তোর বন্ধু বরকত মিলে গরুর হাটে গিয়ে একটি হৃষ্ট-পুষ্ট দেখে গরু কিনে আনবি, আমার শরীরটা বেশি ভাল যাচ্ছে না। আমি যেতে পারব না বাবা বলল।

কুরবানির ঈদের টুকিটাকি

চর্বি ছাড়া গোশত খান 

কুরবানি ঈদে গোশত তো খাওয়া হবেই। খাওয়া না কমিয়ে যদি কাটা ও রান্নার মাধ্যমেই কমিয়ে ফেলা যায় চর্বির ভাগটা! কীভাবে? জানিয়েছেন রান্নাবিদ রাহিমা সুলতানা রিতা। সাধারণত গোশত কাটা হয় কিউব আকারে। এভাবে কাটলে গোশতের মধ্যে চর্বির স্তরগুলো থেকেই যায়। এ জন্য গোশতের টুকরাগুলো স্তরে স্তরে কেটে চর্বির অংশটুকু বাদ দিন। সিনা, রান যেকোনো অংশ থেকেই এভাবে চর্বি বাদ দিয়ে শুধু লাল গোশতটুকু রাখা যেতে পারে। যাদের কোলেস্টেরলে সমস্যা রয়েছে, তাঁরা গোশত প্রথমে সেদ্ধ করে পানিটুকু ফেলে দিন। এরপর ইচ্ছামাফিক রান্না করুন। এতেও চলে যাবে অনেকখানি চর্বি। গ্রিল করা গোশতে চর্বি প্রায় থাকেই না বলা যায়। রোস্ট বা অন্য কোনোভাবে রান্না না করে তাই গ্রিল খাওয়া অনেক স্বাস্থ্যকর। সাদা সিরকা, লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে কাঁচা গোশত ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। এভাবে রাখলে গোশতের প্রায় ৮০ শতাংশই চর্বিই চলে যায়। এরপর তা সংরণ করা যেতে পারে অথবা রান্না করতে পারেন আপনার পছন্দমতো। পশুর চামড়া ছাড়াতে যতœ চাই বছর ঘুরে আবারও এল কুরবানির ঈদ। মানুষ কুরবানির পশু বেচাকেনায় ব্যস্ত।

কুরবানির শিক্ষা

আল্লাহর রাহে যথাসর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার এক আহ্বান নিয়ে প্রতি বছর আমাদের মাঝে হাজির হয় পবিত্র ঈদুল আজহা। মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে কুরবানির রেওয়াজ চলে আসছে। হজরত আদম (আ.)-এর দু’সন্তান হাবিল ও কাবিল কুরবানি করেছিলেন। হাবিল ঐকান্তিক আগ্রহ ও নিষ্ঠার সাথে উৎকৃষ্ট জিনিস কুরবানি করলে তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়। পক্ষান্তরে কাবিল অনাগ্রহ ও নিকৃষ্ট জিনিস উৎসর্গ করলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। কুরবানি মানব সমাজে সবসময়ই কোনো না কোনোভাবে চালু ছিল। আমাদের প্রতিবেশী হিন্দুসমাজেও বলিদান প্রথা চালু আছে। বর্তমান মুসলিম সমাজে চালুকৃত কুরবানি মূলত হজরত ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর পরিবারের চরম আত্মত্যাগের স্মরণ হিসেবে চলে আসছে। হজরত ইবরাহীম (আ.) যখন আদরের সন্তানের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন সেসময় আল্লাহপাক এক জন্তুর বিনিময়ে হজরত ইসমাঈল (আ.) কে ছাড়িয়ে নেন। এ দৃশ্য ছিল অভাবনীয় এবং আল্লাহর কাছে ছিল খুবই প্রীতিপূর্ণ। স্মরণ হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত তিনি পশু কুরবানি জারী করে দেন। কুরআনের ভাষায়-‘অনাগত মানুষদের জন্য এ বিধান চালু রেখে তার স্মরণ আমি অব্যাহত রাখলাম। শান্তি বর্ষিত হোক ইবরাহীমের প্রতি’-আছ ছাফফাত: ১০৮-১০৯। কুরবানি সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের প্রশ্নের জবাবে রাসূল (সা.) বলেছিলেন

ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমা সর্বস্তরে প্রতিফলন প্রয়োজন

পবিত্র জিলহজ্ব মাস চলছে। এ মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিনে বাংলাদেশের মুসলমানরা মহাসমারোহে পশু কুরবানি করবেন। শুধু বাংলাদেশই নয় সারাবিশ্বের মুসলমানরা জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে হজরত ইবরাহিমের সুন্নত হিসেবে প্রিয়বস্তু তথা পশু কুরবানি করে তাদের ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে থাকেন। হাজার হাজার বছর ধরে এ ধরনের কুরবানি চলে আসছে। কুরবানি অর্থ হচ্ছে ত্যাগ, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে স্যাক্রিফাইজ, ‘Sacrifice’. কুরবানির আর একটি অর্থ ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ। আর যে কোনো কাজেই কুরবানি তথা ত্যাগের মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন করা যায়। তেমনিভাবে কুরবানি ও ত্যাগের মাধ্যমেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হবে। এটাই ইসলামের শিক্ষা। ইসলাম ত্যাগ ও কুরবানির শিক্ষাই দিচ্ছে মুসলমান তথা মানবজাতিকে।