Showing posts with label শিরক ও বিদআত. Show all posts
Showing posts with label শিরক ও বিদআত. Show all posts

কুরআন-সুন্নাহর ফয়সলায় শবে বরা'ত !

কুরআন-সুন্নাহর ফয়সলায় শবে বরা'ত !
শবে বরাত পালন বিদয়াত' না ইবাদাত ?

শবে বরাত, লাইলাতুন নিছফি মিন শা‘বান বা মধ্য শাবানের রজনী হচ্ছে আরবী শা'বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের মধ্যে শব-ই-বরাত নামে পালিত একটি পূণ্যময় রাত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমানগণ বিভিন্ন কারণে এটি পালন করেন। মধ্য শাবানের এ রজনী নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এ রাতের ফজিলতের মহাগুরুত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আছে। কুরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞানই এই পথ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে। আর এতে মুসলিম উম্মাহর বিভাজনের রেখা অনেকাংশেই মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শবে বরাত নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোন বিভেদ-বিবাদ নেই। আছে এই দিনকে কেন্দ্র করে যে সকল বিদয়াত আমাদের সমাজে প্রচলিত হয়েছে সে সকল বিদয়াত নিয়ে। সহীহ হাদীস দ্বারা জানা যায় রাসুল (সাঃ) প্রতি চন্দ্র মাসে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন।

মুসলিম হয়েও মুশরিকদের মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণ করা ও তা দেখতে যাওয়া কিয়ামতের অন্যতম আলামতঃ

মুসলিম হয়েও মুশরিকদের মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণ করা ও তা দেখতে যাওয়া কিয়ামতের অন্যতম আলামতঃ

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিমগণের একটি বিরাট অংশ অন্ধকার যুগের শিরকে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে 'মাযার' কেন্দ্রিক শিরকগুলো তৎকালীন আরব মুশরিকদের চাইতেও জঘন্য। কাবাঘর তাওয়াফের মতো মাযার তাওয়াফ করা হচ্ছে, কবরের কাছে মানত ও কুরবানি করা হচ্ছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই শিরকগুলো ইসলামের নামেই প্রচলিত। তবে শেষ যামানায় অথবা কিয়ামতের প্রাক্কালে এই নামধারি মুসলিমরা সরাসরি মূর্তিপূজায় লিপ্ত হবে।
মুশরিকেরা পূজায় তাদের কল্পিত দেবদেবীর কাছে কল্যাণ কামনা করে থাকেঃ মুশরিকরা তাদের বিভিন্ন দেব-দেবতার মূর্তি নির্মাণ ও চিত্র অংকন করে মুলত তাদের কাছেই মঙ্গল কামনা করে এবং ধারনা করে যাবতীয় অমঙ্গল এই সব দেব-দেবী দূর করে দিতে পারে। আর এটাই হচ্ছে মূর্তিপূজা। যদি কেউ দৃঢ়বিশ্বাস করে অমুক দিবস, রাত্রি, মাস তিথি সময়, বস্তু, দ্রব্যের মধ্যে মঙ্গল বা অমঙ্গল করার ক্ষমতা রয়েছে তবে তা শিরকে আকবার, যা একজন মুসলিমকে মূর্তিপূজক বা মুশরিকে পরিনত করে দেয়।

ধর্ম যার যার, উৎসব সবার !

ধর্ম যার যার, উৎসব সবার ! 
একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা ও ইসলামী দৃষ্টিকোণঃ
 
ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- বাক্য দুটি ঈমানের দাবীদার অনেক মুসলিম ভাই ও বোনকে বলতে শোনা যায়। এবং তারা বিশ্বাস করেন যে, নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহন করা বৈধ!
এমন অনেক অজ্ঞ মুসলিম আছে, যারা জেনে অথবা না জেনে বিজাতীয় উৎসব পালন করে থাকেন যেমন পুজা, রাখি বন্ধন, নববর্ষের শুভেচ্ছা, বড়দিন, ভালবাসা দিবস ইত্যাদি। এছাড়াও আরও কতো দিবস যে আমরা পালন করে থাকি তার সঠিক হিসাব একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে থার্টিফাস্ট নাইট !

 কুরআন ও হাদীসের মানদণ্ডে থার্টিফাস্ট নাইট !
মুহাম্মদ হামিদুল ইসলাম আজাদ
ভূমিকা: সারাবিশ্বে চলছে এখন সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। বছরের নানা দিন নানান দিবসের ছলনায় যুবক-যুবতীদের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয় এর মাধ্যমে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের সবচেয়ে বড় শিকার বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সমাজ। থার্টিফার্স্ট নাইট, ভ্যালেন্টাইন’স ডে, এপ্রিল ফুল ইত্যাদি বিভিন্ন নামে বছরজুড়ে যে উত্সব পালন করা হয় তার প্রধান টার্গেট মুসলিম সমাজের যুবক-যুবতীরা। এসব উত্সবের মধ্যে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা, নগ্নতা ও ধোঁকাবাজিসহ সচ্চরিত্র নষ্ট করার সব আয়োজন থাকে ব্যাপকভাবে।

যিকরের মাজলিসের বিদ‘আত ও পাপ !


যিকরের মাজলিসের বিদ‘আত ও পাপ !
যিকরের মাজলিসের প্রকার, প্রকৃতি, পদ্ধতি, বাক্য, শব্দ সবকিছু সুন্নাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সুন্নাতের ব্যতিক্রম সকল কর্ম সযত্নে বর্জন করতে হবে।

বিদ’আত থেকে সাবধান!

বিদ’আত থেকে সাবধান!


বিদ’আত থেকে সাবধান!-১

সুপ্রিয় ভাই, দ্বীনের মধ্যে যখন বিদআতের প্রার্দূভাব দেখা দেয় তখন দ্বীন ধীরে ধীরে দূর্বল হতে থাকে। এক পযার্যে তা মৃত্যু বরণ করে। তাই বিষয়টির গুরুত্বের কারণে এই ব্লগে ধারাবাহিকভাবে বিদ’আত সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা হবে। আলোচনায় আপনাদের যদি কোন বিষয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয় তবে অনুগ্রহ পূর্বক প্রশ্ন করবেন। ইনশআল্লাহ উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হবে। তাহলে সবাইকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি। আশাকরি আপনাদেরকে সঙ্গে পাব। আজকের পোষ্টে যে সকল বিষয় আলোচিত হয়েছে সেগুলো হল:

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী প্রবর্তন ও প্রবর্তক: একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী প্রবর্তন ও প্রবর্তক: একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী প্রবর্তন ও প্রবর্তক: একটি ঐতিহাসিক পর্যালোচনা
পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা। সালাত ও সালাম মহান রাসূল, আল্লাহর হাবীব ও মানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের উপর। আজকের বিশ্বে মুসলিম উম্মার অন্যতম উৎসবের দিন হচ্ছে ‘‘ঈদে মীলাদুন্নবী’’।

শিরকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

শিরকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ


 
শিরকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
শিরকের সংজ্ঞা: রব ও ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সহিত আর কাউকে শরীক সাব্যস্ত করার নামই শিরক।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে উলুহিয়াত তথা ইলাহ হিসাবে আল্লাহর সাথে শরীক করা হয়। যেমন আল্লাহর সাথে অন্য কারো নিকট দোয়া করা কিংবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদাত যেমন যবেহ, মান্নাত, ভয়, আশা, মহব্বত ইত্যাদির কোন কিছু গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা।

সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক-কুফর ! (১ম পর্ব)

সমাজে প্রচলিত কিছু শিরক-কুফর ! (১ম পর্ব)

মুসলিম সমাজে অগণিত মানুষ বিভিন্ন প্রকার শিরক ও কুফরীর মধ্যে নিপতিত। ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা, প্রচলিত কুসংস্কার, মাজারের খাদেম ও প্রচারকদের কথায় বিশ্বাস, ওলী ও বুজুর্গগণ সম্পর্কে অতিভক্তি, তাদের কারামতকে তাঁদের নিজস্ব ক্ষমতা বলে মনে করা ইত্যাদি কারণে তাঁরা বহুবিধ শিরক-কুফরে লিপ্ত। এখানে সুস্পষ্ট কিছু শিরক ও কুফরের উলেখ করছি:

মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

মুহাররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

ভূমিকাঃ আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি নির্ধারিত; এতে কম-বেশী করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ
অর্থাৎঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি, আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে।(সূরা তাওবাঃ৩৬)
এর মধ্যে মুহাররম মাস প্রথম আর যুল হিজ্জাহ সর্বশেষ। বারটি মাসের মধ্যে আবার চারটি মাস অতি সম্মানিত। এ মাসগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত হারাম ছিল। কিন্তু তা বর্তমানে ইসলামী শরীয়তে রহিত, তবে আদব ও সম্মান প্রদর্শন এবং ইবাদতে যত্নবান হওয়ার হুকুমটি এখনও বাকী আছে।

দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে ইসলামের বিধান


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না


রহমান রহীম আল্লাহ্‌ তায়ালার নামে-

flower-game-screenshot-2
শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
প্রশ্নঃ কারও আগমনের সাথে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি?
উত্তরঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, কারও আগমনের সাথে উঠে দাঁড়ানোর ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ একটি বিস্তারিত উত্তর প্রদান করেছেন, শরীয়াহর দলীলের উপর ভিত্তি করে, তাঁর এ মতামত উল্লেখ করা হলঃ

সকল বিদ‘আত কর্মই মূলত জায়েজ

সকল বিদ‘আত কর্মই মূলত জায়েজ
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর 
অধ্যাপক, আল-হাদীস বিভাগ,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
যে কর্ম বা বিশ্বাস রাসূলুল্লাহ সা. ও তাঁর সাহাবীগণ দীন বা ইবাদত হিসেবে পালন করেননি তাকে দীন, ইবাদত বা সাওয়াবের কর্ম বলে মনে করা বিদ‘আত। এখানে সংক্ষেপে বিদআতের কিছু বৈশিষ্ট্য তথ্যসূত্র বাদে উল্লেখ করছি।
(ক) বিদআত একান্তই ধার্মিকদের পাপ। ধার্মিক ছাড়া কেউ বিদআতে লিপ্ত হয় না। বিদআতই একমাত্র পাপ যা মানুষ পুণ্য মনে করে পালন করে।
(খ) কোনো কর্ম বিদআত বলে গণ্য হওয়ার শর্ত তাকে ইবাদত মনে করা। যেমন একজন মানুষ দাঁড়িয়ে, লাফিয়ে বা নর্তনকুর্দন করে যিকর বা দরুদ-সালাম পড়ছেন। এরূপ দাঁড়ানো, লাফানো বা নর্তন-কুর্দন শরীয়তে মূলত নিষিদ্ধ নয়। কেউ যদি জাগতিক কারণে এরূপ করেন তা পাপ নয়। দাঁড়ানো বা নর্তন কুর্দনের সময় যিকর বা দরুদ-সালাম পাঠ পাপ নয়। দরুদ-সালাম বা যিকরের সময় কোনো কারণে বা অনিয়ন্ত্রিত আবেগে দাঁড়ানো বা লাফানো পাপ নয়। কিন্তু যখন কেউ ‘দাঁড়ানো’, ‘লাফানো’ বা ‘নর্তন-কুর্দন’-কে দীন, ইবাদত বা ইবাদতের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করেন তখন তা বিদআতে পরিণত হয়।

শিরক ও তার ভয়াবহ পরিণতি



-ইমামুদ্দীন বিন আব্দুল বাছীর
ভূমিকা :
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রবহমান পাপ সমূহের মধ্যে শিরক সর্বাপেক্ষা বড় পাপ হিসাবে স্বীকৃত। শিরকের চেয়ে জঘন্য কোন পাপ নেই। অন্যান্য পাপ মহান আল্লাহ সহজেই মাফ করে দেন। কিন্তু শিরকের পাপ সহজে মাফ করেন না। শিরকের অপরাধের জন্য বিনয়-নম্রতার সাথে তওবা করতে হয়। শিরককে কাবীরা গুনাহ সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় কাবীরা গুনাহ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আব্দুর রহমান ইবনু আবুবকর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি বললেন, আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় তিনটি পাপের কথা বলব কী? ছাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সাথে শিরক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা’।[1] শিরক এক অমার্জনীয় অপরাধ। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে আদম সন্তান! তুমি যদি আমার নিকট যমীন ভর্তি পাপ নিয়ে আস, আর শিরক মুক্ত অবস্থায় আমার সাথে সাক্ষাৎ কর। তাহলে আমি ঐ যমীন ভর্তি পাপ ক্ষমা করে দিব’।[2] তাই বুঝা যায়, শিরকের মত জঘন্য পাপ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। যার কারণে প্রত্যেক নবী ও রাসূলগণ শিরকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গেছেন। কোন নবী ও রাসূলকে শিরকের সাথে আপোস করতে দেখা যায়নি। তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন শিরকের সাথে আপোসহীন।
শিরকের শাব্দিক পরিচিতি :

ইসলামে সুন্নাহ’র অবস্থান

ইসলামে সুন্নাহ’র অবস্থান

নিশ্চয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দীনসহ সুসংবাদদানকারী, সতর্ককারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে এমন সময় প্রেরণ করেছেন, যখন রাসূল প্রেরণের বিরতিকাল চলছিল এবং হেদায়াত পাওয়ার সকল পথ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; অতঃপর তিনি তার মাধ্যমে অজ্ঞতার অন্ধকারকে আলোকিত করেছেন এবং ভ্রষ্টতা থেকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন; আর তিনি সবকিছু স্পষ্টভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর উম্মতকে সমুজ্জ্বল পথের উপর রেখে গেছেন, তার রাত্রি যেন দিনের আলোর মত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :

হাদীসের মর্যাদা ও হাদীস অমান্য করার পরিণতি

হাদীসের মর্যাদা ও হাদীস অমান্য করার পরিণতি

হাদীস অস্বীকার প্রসঙ্গে দুটি কথা:
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, বর্তমান যুগে অগণিত ফিতনার মাঝে একটি বড় ফিতনা হল হাদীস অস্বীকার করা ফিতনা। এই হাদীস অস্বীকার কারীর দল তাদের নোংরা নখর বের করে সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্বত্বা এবং হাদীসে রাসূলের উপর কঠিন ভাবে আক্রমণ শুরু করেছে। কারণ, হাদীস থেকে মুসলমানদের দূরে সরাতে পারলে মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরানো পানির মত সোজা। এ জন্য তারা ফেসবুক, ওয়েবসাইট ও ওয়া মাহফিল, সভা ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের এই জঘন্য অপ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষকে তারা হাদীসের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান করে তুলছে। হাদীসের অপব্যাখ্যা করে তার মানহানি করছে। হাদীসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে। তারা বলতে চায় শুধু কুরআন যথেষ্ট। হাদীস মানার প্রয়োজন নাই। হাদীস বা সুন্নাহ শব্দটি তারা শুনতে চায় না। যার কারণে এরা নিজেদেরকে নাম দিয়েছে আহলে কুরআন বা কুরআনের অনুসারী।

কুরআনের আলোকে মুনাফীকের চরিত্র

কুরআনের আলোকে মুনাফীকের চরিত্র

(1)

 وَإِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ مَّا وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا

এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয় । (৩৩: ১২) 

পৌত্তলিকদের ছোবলে দেশের তরুণ যুবসমাজ

পৌত্তলিকদের ছোবলে দেশের তরুণ যুবসমাজ

Jobo-Somaz


অবস্থা দেখে মনে হয়, এ দেশের বৃহত্তর জনগণের মুসলিম-পরিচিতি বিলুপ্ত করার ও তাদেরকে মুশরিক (পৌত্তলিক) বানানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কাজটি হচ্ছে একটি অতি সূক্ষ্ম, সুচিন্তিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায়। পরিকল্পনাটি বহুমাত্রিক, যাতে রয়েছে শিক্ষাকেন্দ্রিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নানা দিক। এ নিবন্ধটি এমন কিছু বিষয় নিয়ে লেখা, যেগুলো শিরকি (পৌত্তলিক) ধ্যান-ধারণার বাহন হিসেবেই কাজ করছে। এসব কাজের দ্বারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে, বিশেষত তরুণসমাজের মধ্যে যে মগজ ধোলাই হচ্ছে, তাতে ধীরে ধীরে আমাদের ঈমানী শক্তি লোপ পাচ্ছে এবং পৌত্তলিকতার দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি বলে মনে করার কারণ আছে।

মাযারে প্রচলিত বিদআতসমূহ

মাযারে প্রচলিত বিদআতসমূহ

স্মরণ রেখ, শর্তহীনভাবে, নির্দিষ্ট দিন-মাস ও সময় ব্যতীত দলবদ্ধ না হয়ে কবর যিয়ারত করা পুরুষের জন্য সুন্নত। কারণ, এর মাধ্যমে তার অন্তরে মৃত্যুর স্মরণ সদা জাগ্রত থাকবে। মগ্ন হবে সে পরকাল চিন্তায়। পার্থিবের ব্যাপারে সৃষ্টি হবে নিরাসক্তি ও নৈরাশ্য। এ উদ্দেশ্য ব্যতীত ভিন্ন কোন কারণে কবর জেয়ারতে গমন অবৈধ সর্বৈবে। 
কবর জেয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত হতে ভ্রমণ করা, কিংবা কবর জেয়ারতের জন্য দিন-মাস ও সময় নির্ধারণ করা, কবরকে কেন্দ্র করে উৎসব ও ওরস যাপন, তাতে আলোকসজ্জা, কেবল কবরকে উদ্দেশ্য করে কবরস্থানে মসজিদ নির্মাণ, নারীদের কবর জেয়ারতে গমন, (এ নিষেধাজ্ঞা কেবল এমন নারীর জন্য, যে তথায় গমন করে শরিয়ত বিরোধী কাজে অংশ নেয় ; যার উদ্দেশ্য কবর জেয়ারতের মাধ্যমে মৃত্যুর স্মরণ করা, পরকালের চিন্তা মনে জাগ্রত রাখা, তার জন্য অবৈধ নয়) কবরের উপর চাদর টানান, পাকা করা, কবরস্থান বা কবরের শিয়রে মৃতের মৃত্যু তারিখ, তাদের নাম, কোরআনের আয়াত- ইত্যাদি অঙ্কন করা, কবরের উপর ...নির্মাণ, এক ...চেয়ে উঁচু কবর বানান, পুণ্যের কাজ মনে করে কবরের পাশে সালাত আদায়, কবরের পাশেই আবাস স্থাপন, মসজিদের সাথে যে আচরণ ও সম্মান প্রদর্শন কাম্য, তা কবরের সাথে করা, -এ উদ্দেশ্য করে কবরকে কেন্দ্র করে আনন্দ উদযাপন করা যে, এর মাধ্যমে কবর-বাসীর চিত্ত বিনোদন হবে, এবং সে প্রাপ্ত হবে অশেষ সওয়াব- এসব কিছুই মাকরূহ, হারাম ও চূড়ান্ত বেদআত।